দম দম ডিমোলিশন ড্রাইভ: কেন হচ্ছে? কী ঘটছে?

কলকাতা, ১ জুন ২০২৬: দম দম জংশন রেলওয়ে স্টেশনে গত শনিবার রাত থেকে রবিবার ভোর পর্যন্ত একটি বড় ডিমোলিশন ড্রাইভ (ভেঙে ফেলা অভিযান) চালানো হয়েছে। এই অভিযানে ২০০-এর বেশি অবৈধ দোকান ও কiosk ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং শত শত হকার বের করে দেওয়া হয়েছে ।

কেন এই ডিমোলিশন ড্রাইভ চালানো হলো?

প্রশাসনের কারণ (Government Reason)

  • অবৈধ দোকান :-রেলওয়ে জমিতে অবৈধভাবে তৈরি দোকান
  • যাত্রীদের সুবিধা:-প্ল্যাটফর্ম ও স্টেশনের রাস্তা স্পষ্ট করা
  • কানুন মানা:-প্ল্যাটফর্ম ও স্টেশনের রাস্তা স্পষ্ট করা
  • পূর্বে নোটিশ:-এবার অনেক দিন আগে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল দম দম স্টেশন এর হকারদের

রাইলওয়ে অফিসাররা বলেছেন: “রেলওয়ে জমিতে কোনো অবৈধ দখল সহ্য করা হবে না। ডিমোলিশন ড্রাইভ চলতেই থাকবে।”

দম দম

কীভাবে অভিযান চালানো হলো? (How Was It Done?)

তারিখ: ৩০-৩১ মে ২০২৬, শনিবার রাত থেকে রবিবার ভোর

সময়: রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত

স্থান: দম দম জংশন রেলওয়ে স্টেশন, প্ল্যাটফর্ম ১-৪ ও স্টেশনের রাস্তা

You can read

Demolition shock at Dum Dum; overnight railway eviction drive razes hawkers’ kiosks amid protests

কাদের দল ছিল?

Government Railway Police (GRP)

Railway Protection Force (RPF)

কলকাতা পুলিশ

কেন্দ্রীয় বাহিনী

বুলডোজার ও এক্সক্যাভেটর

কী কী ভেঙে ফেলা হলো?

১. প্ল্যাটফর্ম ১-৪: সব দোকান ভেঙে ফেলা হয়েছে

২. স্টেশনের রাস্তা: বুলডোজার দিয়ে অবৈধ দখল পরিষ্কার করা হয়েছে

৩. ২০০+ অবৈধ দোকান: সব ভেঙে ফেলা হয়েছে

৪. শত শত হকার: বের করে দেওয়া হয়েছে

কিছু দোকান বাদ পড়েছে:

1.গীতা প্রেসের দোকান (প্ল্যাটফর্ম ২)

2.সরকারি অনুমোদিত চায়ের দোকান (প্ল্যাটফর্ম ৩)

You can read our website article 

মমতা ব্যানার্জির ২ জুন বড় ধরনের বসে আন্দোলন: কেন হচ্ছে? কী ঘটছে?

From 1st June Free Ride for West Bengal Women in SBSTC, WBTC, NBSTC buses

বাস্তব উদাহরণ:

এক বৃদ্ধ হকারের গল্প

রামদাস মন্ডল (৬৫ বছর) দম দম স্টেশনে ১৫ বছর ধরে পানি বিক্রি করতেন। রবিবার সকালে তিনি এসে দেখলেন তার দোকান ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। তিনি রubble থেকে তার জিনিস খুঁজছিলেন ।

রামদাস বলেছেন: “আমার কোনো অন্য জায়গা নেই। আমার ছেলে-মেয়ে খাবে কী দিয়ে?” 

প্রশাসন তাকে আরও সময় দিতে অনুরোধ শোনেনি। তারা বলেছে: “আপনাকে রিলিহ্যাবিলিটেশন (নতুন জায়গা) দেওয়া হবে না।”

হকারদের সমস্যা কী?

  • রোজগার হারানো:-হকারদের রোজগারের জায়গা চলে গেছে
  • রিলিহ্যাবিলিটেশন নেই:-তাদের নতুন জায়গা দেওয়া হয়নি
  • পূর্বে নোটিশ যথেষ্ট নয়:-হকাররা বলেছে, অল্প সময় দেওয়া হয়েছিল
  • পরিবারের সমস্যা:-তাদের ছেলে-মেয়েদের খাবার সমস্যা হবে

হকারদের বিক্ষোভ (Protest)

CITU (CPI-M trade union) হকারদের নেতৃত্বে মধ্যরাতে স্টেশনে এসে অভিযান রোধ করার চেষ্টা করে

হকাররা প্রতিবাদ করে এবং যতটুকু পারত জিনিস বাঁচাতে চেষ্টা করে

পুলিশের ভারী মোতায়েন: পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী তাদের আটকে রাখে

অভিযান বিনা বাধায় চলতে থাকে

রাইলওয়ে অফিসারদের মন্তব্য (Official Statement)

স্টেশনের সব অবৈধ দোকান সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তবে প্ল্যাটফর্ম ২ ও ৩-এ দুটি দোকান অব্যাহত রাখা হয়েছে।” — GRP অফিসার

এই ড্রাইভ হকারদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ। বারবার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আইন অনুযায়ী কাউকে স্টেশন পরিষ্কার করা হয়েছে।” — রেলওয়ে অফিসার 

কোনো অবৈধ দখল সহ্য করা হবে না। ডিমোলিশন ড্রাইভ চলতেই থাকবে।” — Eastern Railway 

সমাধান কী? (What Can Be Done?)

হকারদের দাবি:

১. নতুন জায়গা দিন (রিলিহ্যাবিলিটেশন)

২. আরও সময় দিন

৩. পেন্সন বা সহায়তা দিন (বৃদ্ধ হকারদের জন্য)

সরকারি সমাধান:

১. নতুন হকার জোন তৈরি করুন (স্টেশনের কাছাকাছি)

২. সরকারি অনুমোদিত দোকান দিন (যেমন গীতা প্রেস)

৩. অর্থনৈতিক সহায়তা দিন (বৃদ্ধ হকারদের জন্য)

Conclusion 

দম দম রেলওয়ে স্টেশনে ২০০+ অবৈধ দোকান ভেঙে হাজার হকারদের রোজগার চলে গেছে। প্রশাসন বলে এটি কানুন মানা এবং যাত্রীদের সুবিধা। কিন্তু হকাররা বলে তাদের রিহ্যাবিলিটেশন দেওয়া হয়নি। এখন সরকারের দায়িত্ব হকারদের নতুন জায়গা ও সহায়তা দেওয়া ।

Leave a Comment